রাজু দাশ,চকরিয়া :
চকরিয়ায় রমজান মাসের শুরুতেই শসা, কলা,লেবু রোজাদারদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কাঁচাবাজার গুলোতে যথাযথ বাজার মনিটারিং ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে অস্বস্তি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ। নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

বুধবার (৬ এপ্রিল) পৌর শহরের বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের শুরুতে কোনও কারণ ছাড়াই বাজার দর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তপ্ত আবহাওয়া ও উত্তপ্ত বাজার দরে চকরিয়ার মানুষ এখন অসহায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে খাদ্য পণ্যের মূল্য অনেক বেড়েছে। রমজান মাসের ইফতারের মেন্যুতে লেবুর শরবত, শশা ও কলা সব পরিবারেই থাকে। কিন্তু এবার রমজানের শুরুতেই এসব খাবার নিম্ন আয়ের মানুষের ধরাছোয়ার বাইরে চলে গেছে। রমজান মাসকে কেন্দ্র করেই বাড়ানো হয়েছে প্রতিটি সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম। প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কাঁচা মরিচ কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করছেন দোকানিরা। আর প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করছে। তবে শীত মৌসুমের ৮০ টাকার টমেটো এখন চৈত্র মাসে এসে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। গাজরের প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। গত কয়েকদিন আগেও প্রতি হালি কলা ২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেগুনের কেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ৪০ টাকা হলেও বর্তমানে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে রমজান উপলক্ষে মাছের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। মাছের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। কেজি সাইজের রুই মাছ ২৭০ থেকে ৩শ’ টাকা, কাতলা মাছ ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা, ইলিশ মাছ ৬শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, চিংড়ি মাছ সাড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ১২শ’ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৭শ’ টাকা, খাসির মাংস ৭শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৮শ’ টাকা হয়েছে। বেড়েছে লেয়ার মুরগির দাম। কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০টাকা।
মুদি দোকানগুলোতে সয়াবিন তেল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা ও চিকন মসুর ডালের দাম ১২০ টাকা। চালের বাজার রয়েছে অপরিবর্তিত। মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ও আটাশ ৫০-৬০ টাকা কেজি। মোটা চালের দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অস্বাভাবিক এমূল্য বৃদ্ধি উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণে না থাকার সুযোগে হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগন।

তবে ভিন্নচিত্র দেখা গেছে পৌর শহরের বাইরে অবস্থিত কাঁচাবাজার গুলোতে। কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় আলু, লেবু, শশা, গাজর, জিঙা, টমেটো, কিছুটা কম দামেই বিক্রি হচ্ছে।

পৌরসভা চিরিংগা এলাকার আরিয়ান হাসান আইয়ান বলেন, একদিকে প্রচণ্ড গরম অপর দিকে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন মানুষকে দিশেহারা করে ফেলেছে। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আজ চরম অসহায়। পাইকারদের সঙ্গে যোগসাজশে স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্রই পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 
  
%d bloggers like this: