-বদরুল ইসলাম বাদল

মুজিব বর্য নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম ইতিহাসের   গৌরবের অংশীদার। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে  উন্নয়নশীল দেশের সারিতে বাংলাদেশ, শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন, খাদ্যে স্বনির্ভরতা,দেশের অবকাঠামো গত উন্নয়ন  নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্ব কূটনৈতিক পাড়ায় আলোচিত শিরোনাম । উন্নয়নের সাথে  দলের সাংগঠনিক ভিত্তির মজবুত এবং অপরাজনীতির প্রবনতা কে দমনের জন্য আদর্শীক রাজনীতি চর্চার গুরুত্বের পরামর্শ দেন  রাজনৈতিক সচেতন মহল।

বঙ্গবন্ধু আদর্শে বিশ্বাসীদের জন্য মুজিব বর্য অনুপ্রেরণার  আত্মোপলব্ধির এবং  পরম আবেগের।মুজিব  বর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে  ছিল যে,  মুজিবাদর্শ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী শ্রমজীবী সর্বহারা শ্রেণির মানুষের মাঝে  ছড়িয়ে  দেয়া।তবে   রাজনীতি  সচেতন মানুষের ধারণা, মুজিব বর্যে  শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া  আদর্শ চর্চা নিয়ে গুনগত  উন্নয়ন  হয়েছে বলে মনে হয় না।বেড়েছে বিভাজন, দ্বন্দ্ব এবং দলের মধ্যে নেতা কর্মীদের মাঝে অবিশ্বাস।  যার বহিঃপ্রকাশ কক্সবাজার তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রতিভাত হয়েছে।  কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তৃনমুল  তাদের সাথে স্থানীয় নেতাদের মনোমালিন্য,দুরত্বের  কারণ সমুহ অকপটে  তুলে ধরেন।তবে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত  হয়েছে তা হল  সদ্য সমাপ্ত ইউ পি নির্বাচন ঘিরে। মুজিব বর্যের চেতনার উল্টো পথে চলা সাম্প্রতিক সময়ে ইউ পি নির্বাচনে  দলের  কর্মীদের নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান, নৌকা না পেয়ে  স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে থাকা। দেশের অনেক জায়গায় দলের  সাংসদ থেকে  শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে নৌকা বিরোধী অবস্থান নিতে দেখা গেছে।ফলে অনেক ইউনিয়নে নৌকার শোচনীয় পরাজয়ে লজ্জিত হয়ে যায় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত সবাই।যেমন চকরিয়া উপজেলার  কৈয়ারবিল,চিরিংগা পেকুয়া উপজেলার  মগনামা ইউনিয়ন সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এত কম ভোট  নৌকা পেয়েছে সংখ্যা লিখতে লজ্জা হয়।কথা হল  ইউনিয়ন এবং  ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের  পুর্নাঙ্গ  কমিটি থাকার পর ও এত কম ভোটের জন্য স্থানীয় কমিটি দায় এড়াতে পারে না। কিন্তু যতদূর জানি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কমিটি নুন্যতম বিব্রত হয়েছে বলে মনে হয় না। আর উপজেলা কমিটি এরকম লজ্জাজনক  পরাজয়ের কারণ জানতে নোটিশ  করেছে বলে জানা নাই। গনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে  ব্যর্থতার দায়  নিয়ে  পদত্যাগ করার নজির অনেক ।কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নেতারা নুন্যতম লজ্জিত হয়েছে বলা  যায় না।কোন অনুশোচনা দেখা যায় না। অনেক জায়গায় নৌকা বিরোধী প্রার্থীদের থেকে অনৈতিক সুবিধা  নেওয়ার গুঞ্জন আছে। তাই এ বিষয়ে দলীয় তদন্ত পূর্বক তাদের পদ ত্যাগে বাধ্য করা উচিত বলে মনে করে বিশেষজ্ঞ মহল। মুজিব বর্যে যেখানে বঙ্গবন্ধু আদর্শ ধারণ করা,  লালন করা হবে বেশি বেশি এমন সময়ে কতিপয়  নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডের  ধিক্কার জানানোর ভাষা নাই  শিল্পী জয়নুল আবেদীনের ভাষায, “এখনতো চারিদিকে  রুচির দুর্ভিক্ষ। একটা স্বাধীন দেশে সুচিন্তা আর সুরুচির দুর্ভিক্ষ। এই দুর্ভিক্ষের কোন ছবি হয় না।”

সচেতন মহলের মতামতে,নৌকা বিরোধীতাকারীদের  দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে  শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী সময়ে কেউ নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিতে সাহসী হতো  না।প্রতিটি বড় দলে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকে।  আওয়ামী রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে দলীয় কোন্দল  ছিল। তবে সেই  অন্তর্দলীয় কোন্দল, কলহ, বিবাদ এত প্রকট এবং কদর্য ছিল  না।এখন রাজনীতি চর্চা শিকেয় উঠেছে। প্রতিটি ইউনিটে প্রচুর নেতা,সাথে মোটর সাইকেল নিয়ে হাজারো সফর সঙ্গী। মডার্ন পলিটিক্সের এই ধারায় নেতাদের সাথে জনগণের সম্পর্ক কমিয়ে আসছে।এরা রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে মনে করে। এ ধারার রাজনীতি চর্চাকারীদের ফাঁদে পদে পদে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। আর এসব  নেতাদের কাছ থেকে প্রজন্ম কি শিক্ষা নিতে পারবে?। ।বঙ্গবন্ধু  শুধু ভোটে পার পেয়ে সরকার গঠনের জন্য দল গঠন করে নাই ।সাতই মার্চের ভাষণে  বঙ্গবন্ধু  স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা উচ্চারণ করেন একবার।কিন্তু   মুক্তি শব্দটি উচ্চারণ করেন অনেক বার। স্বাধীনতা শব্দ টি দিয়ে তিনি পাকিস্তানি শৃংখল থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা বুঝিয়েছেন। আর মুক্তি শব্দটি দিয়ে বুঝিয়েছেন,   অর্থনৈতিক,  সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি,সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা তথা বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি।।কারণ তা  না হলে স্বাধীনতা কোন দিন অর্থবহ হতে পারে না । ক্ষুধা দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর তার বাস্তব রূপ দেয়ার  জন্য দরকার রাজনৈতিক চর্চা, অধ্যায়ন। শুধু ভোটের পার হওয়ার জন্য রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে  জাতি কিছু আশা করতে পারে না।তাই  দরকার রাজনৈতিক চর্চা  শিখন পাঠন।কিন্তু দুঃখজনক হল তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় সে নিয়ে  কোন  দিকনির্দেশনা আসে নাই।আর নিজস্ব বলয়ের নেতাদের নিয়ে জোরালো শ্লোগানের প্রাধান্য বেশী পরিলক্ষিত হয়।  স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী  গনতান্ত্রিক আন্দোলনে কক্সবাজারের একমাত্র শহীদ চকরিয়ার  দৌলত খান। ঢাকার রাজপথে শহীদ   রাউফুন বসুনিয়া, দীপালি সাহা, নুর হোসেন সহ অনেক নেতাকর্মীদের সাথে শহীদ দৌলত খান কক্সবাজারের গর্ব। চকরিয়া কিংবা কক্সবাজারের কোন নেতা  কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে  দৌলত খানকে স্মরণ করে নাই। এগুলো আমাদের রাজনৈতিক হীনমন্যতা নয় কি?

বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকান্ডের পরে  পদ নিয়ে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসতে ভয় পেতেন মানুষ।পদে থাকতে চাইত না।।আজকাল ওয়ার্ড কমিটির পদ পেতে ও টাকা লেনদেন সংক্রান্ত অনেক অভিযোগ।বি এন পি জামাতের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের অনেক উচ্চ পদে। যার একমাত্র কারণ পদ বাণিজ্য।তৃণমূলে এনিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন,”যারা দলের পদ বিক্রি করে তারা পতিতা ব্যবসায়ীদের চেয়ে নিকৃষ্ট।পদ বিক্রিকারীদের স্থান দলে হবে না।”   তিনি পদ বানিজ্যের সংশ্লিষ্টদের তীব্র তিরস্কার করেন। তৃণমূল আশা করে, পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাইব্রিড সুবিধা ভোগী ভিন্ন দলের কেউ পদে আসতে না পারে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ দৈনিক রুপ রুপান্তরকে বলেন,”এসবের অভিযোগের আংশিক সত্যতা রয়েছে, পুরো নয়”।তিনি বলেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে পদ বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।”.পদ বাণিজ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হুসিয়ারী রয়েছে। আর   আদর্শিক ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়নের নির্দেশনা আছে।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,” যাদের  রক্তের সাথে আওয়ামী লীগ মিশে আছে তারা কোন দিন বেঈমানী করতে পারে না, বেঈমানী তারাই করে যারা নিজের স্বার্থের জন্য আওয়ামীলীগ করে। ”
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আলম হানিফ বলেছেন, “বিদ্রোহীরা ভবিষ্যতে দলের মনোনয়ন পাবে না।এমন কি তাদের দলীয় পদ ও থাকবে না।”  তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় নৌকার বিপক্ষে ভোট করা কাউকে কমিটিতে পদ পদবিতে না রাখার কথা বলা হলে ও অনেক জায়গায়  তা মানা হচ্ছে  না।নেতাদের পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি সাজানো হচ্ছে। তাই অনেক তৃণমূল এর অভিমত, তৃণমূল প্রতিনিধি সভা শুধু  তৃণমূল নেতাকর্মীদের  সান্ত্বনা সভা ছিল কিনা। তৃণমূল সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সভাপতি তার মন্তব্যে বলেন তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো,সেই ভাবে অন্যান্য সভা থেকে নামিয়ে দেয়া হলে দলের বিরোধীতা করতে সাহস পেত না আর কখনো।এমুহূর্তে উন্নয়নের পাশাপাশি সংগঠন বৃদ্ধি এবং সুসংগঠিত করার দিকে নজর দেওয়া দরকার। না হলে বিপর্যয় আসলে রাজনীতির মঞ্চের মৌসুমি পাখিদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।তাই প্রতিনিধি  সভায় নেতাদের আশ্বাসের পুরো  বাস্তবায়ন চায় তৃনমুল।
জয় বাংলা।

কলামিস্ট ও সমাজকর্মী
সাবেক  ছাত্রনেতা।

 
  
%d bloggers like this: