এস.এম.জুবাইদ ,পেকুয়া:

পেকুয়া উপজেলার সদরের চৌমুহনী স্টেশনের উত্তর পাশে দুইবছর আগে স্থাপন করা হয় এস এ এনার্জি নামের একটি গ্যাস পাম্প। কাভার্ড ভ্যানকে চেম্বার বানিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে সেখানে আনা হয় এলপিজি গ্যাস। সেই গ্যাস যানবাহনে খুচরা বিক্রি করা হয়। এতে পাম্পের আশেপাশের বাসিন্দাদের জনজীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এস এ এনার্জি গ্যাস পাম্পের চারপাশে অন্তত ৫০ টির অধিক বসতবাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে বহুতল ভবন রয়েছে দশটি। জনবসতির ঠিক মাঝখানের এই পাম্পে পার্কিং করা আছে গ্যাসভর্তি দুটি কাভার্ড ভ্যান। এসব ভ্যান থেকে নলের সাহায্যে কম্প্রেশার মেশিনের মাধ্যমে যানবাহনে সরবরাহ করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। পাম্পের পেছনের অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য গ্যাস সিলিন্ডার। কোনটির গায়ে মেয়াদের সীল নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, যানবাহনে গ্যাস সরবরাহের সময় পাম্পে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। এতে আমরা খুব ভয় পাই। নারী-শিশুরা তো আরও বেশি ভয়ে দিন কাটান। আবাসিক এলাকা থেকে গ্যাস পাম্পটি সরানোর দাবি জানালেও তারা তা কানে তুলেনি।

স্থানীয় গৃহিনী হুমায়রা জান্নাত বলেন, গ্যাস পাম্পের শৌচাগারের নোংরা পানি এসে আমাদের একমাত্র পুকুরে পড়ছে। এতে গৃহস্থালি কাজসহ যাবতীয় কাজকর্মে পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমাদের আশেপাশে কোন টিউবওয়েলও নেই। অনেক দূর থেকে আমাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে আমরা ২০টি পরিবার খুব কষ্ট পাচ্ছি। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও পাম্প সংশ্লিষ্টদের কোন সদুত্তর পাইনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জুনাইদ বলেন, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুলার আগুন জ্বালাতে আমরা ভয়ে থাকি। কারণ আমাদের রান্নাঘরের দশ-পনেরো ফুট অদূরে পাম্পের গ্যাস সরবরাহ চলে। তাই দুর্ঘটনার আতংকে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। এতে বাপ-দাদার ভিটেমাটি বেচে আমাদের চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এস এ এনার্জির গ্যাস পাম্পের পরিচালক মাধব চন্দ্র সাহা বলেন, যতটা সেইভ সাইডে থাকা যায়, মানুষের ক্ষতি না হয়। সেটা আমরা চেষ্টা করছি। আর সরকারী নীতিমালা মেনে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদর্শক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এস এ এনার্জি গাস পাম্পকে বিস্ফোরক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এটির অবস্থান আবাসিক এলাকা বা জনবহুল স্থানে নয় বলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি পত্রের কারণে তাদের এ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক নায়েব আলী বলেন, আবাসিক এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপনে আশেপাশে সেফটি ডিস্টেন্স থাকতে হবে। পেকুয়ার বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

 
  
%d bloggers like this: