এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় বদরখালীতে গভীর রাতে একটি লবনমাঠ-মৎস্যঘোনায় তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ওইসময় তাঁরা স্থানীয় দুইশত একর আয়তনের লবন মাঠের বেঁডিবাধের পলবুট কেটে দেয়ায় জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মাঠে উৎপাদিত প্রায় ৬ হাজার মণ লবণ। এতে শতাধিক প্রান্তিক লবণ চাষী প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
পাশাপাশি লুটে নিয়ে গেছে ঘোনার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর গাড়ির বিপুল পরিমাণ তেল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের ছিরাদিয়া ঘোনায় ঘটেছে এ তাণ্ডবের ঘটনা।
ঘোনার জমি মালিক বদরখালী ইউনিয়নের মগনামা পাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে বেলাল উদ্দিন, আবদুর রহিমের ছেলে ফরিদুল আলম, মৃত আজম উল্লাহ’র ছেলে শামসুল আলম, হাজী আবু ছালামের ছেলে জামাল উদ্দিনসহ অংশিদাররা বলেন, তাঁরা দুইশ পরিবারের মালিকানাধীন ২১০ একর আয়তনের ছিরাদিয়া ঘোনা নামক লবণ মাঠ-মৎস্যঘেরটি প্রতিবছর মৌসুম ভিত্তিক (লবণ ও মাছ চাষ আলাদাভাবে) লাগিয়ত দিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন।
এবছর ঘোনাটি চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা এলাকার হাজি জামাল উদ্দিন মৎস্য চাষের জন্য লাগিয়ত দিয়েছেন। তবে জমি মালিক ও চাষীরা লবণ চাষ সমাপ্ত করলে আগামী একমাসের মধ্যে তিনি (নতুন ইজারাদার) যথারীতি মৎস্য চাষ করবেন। এই চুক্তিতে ইতোমধ্যে ইজারাদার হাজি জামাল উদ্দিন ঘোনার চারিদিকে বেঁিড়বাধ সংস্কার কাজও শুরু করেছেন।
জমি মালিকরা অভিযোগ করেছেন, নতুন ইজারাদার ঘোনার সংস্কারকাজ করা কালে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একদল অস্ত্রধারী দুবর্ৃৃত্ত অতর্কিত ঘোনায় হানা দিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এসময় লবন মাঠের বেঁিড়বাধের পলবুট কেটে দেয়ায় জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে উৎপাদিত প্রায় ৬ হাজার মণ লবণ। এতে শতাধিক পান্তিক লবণ চাষী প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
জমি মালিক বেলাল উদ্দিন, ফরিদুল আলম, শামসুল আলম ও জামাল উদ্দিনসহ অংশিদারদের অভিযোগ, ঘোনার বেঁিড়বাধের পলবুট কেটে দেয়ার ঘটনায় আগের ইজারাদার চকরিয়ার চোঁয়ারফাঁিড়র নাজেম উদ্দিন সওদাগর জড়িত রয়েছে। মুলত তাঁর (নাজেম সওদাগর) ইজারা মেয়াদ শেষ হলেও ইমাম শরীফ গং থেকে ঘোনার একাংশ ইজারা নিয়েছেন দাবি করে তিনি এখনো ঘোনাটি দখলে রাখার অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে।
নতুন ইজারাদার হাজি জামাল উদ্দিন দাবি করেন, পলবুট কেটে দিয়ে চলে যাবার সময় দুর্বৃত্তরা ঘোনার সংস্কারকাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর গাড়ির বিপুল পরিমাণ তেল ও বিভিন্ন মালামাল লুটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব।
অপরদিকে জমি মালিকপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগের ইজারাদার নাজেম উদ্দিন সওদাগর। তিনি বলেন, ঘোনার একাংশের জায়গা আমাকে ইজারা দেয়ার কথা থাকলেও ওইপক্ষটি এখনো বিষয়টি চুড়ান্ত করেনি। তাই আমি বা আমার কোন লোক সেখানে (ঘোনায়) যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। সুতারং পলবুট কেটে দেওয়া ও লবণ ভেসে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

 
  
%d bloggers like this: