বাংলা ট্রিবিউন
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। তাদের দাবি, সন্ধ্যা হলেই আরসার সদস্যদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখা যায়। ক্যাম্পে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের পেছনে আরসার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় আরসার কার্যক্রমকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গারা।

তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বরাবরই দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার অস্তিত্ব নেই। ‘কিছু অপরাধী সংগঠন’ আরসার নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে কথিত আরসার কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোহিঙ্গাদের শীর্ষনেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিষয়ে ফতোয়াদাতা আরসার ওলামা কাউন্সিলের প্রধান মুফতি জাকারিয়া ও আরসা প্রধানের ভাই মোহাম্মদ শাহ আলীকে গ্রেফতারের পর ক্যাম্পে আরসার অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি আরসা প্রধানের ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, তারা ‘কথিত আরসার’ সদস্য।

তবে রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, মুহিবুল্লাহসহ সাত জনকে হত্যার পর পুলিশ প্রশাসনের অভিযানের মুখে পালিয়ে গিয়েছিল আরসা বাহিনী। এখন আবারও ফিরেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার তৎপরতা আবারও বেড়েছে। আরসাকে মদত দিচ্ছে মিয়ানমার প্রশাসন। কারণ আরসা তাদের সৃষ্টি। দেশটির ‘এজেন্ট’ হিসেবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছে সংগঠনটি। এজন্য প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করা কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের এআরএসপিএইচ কার্যালয়ে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বালুখালীর দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসায় আরও ছয় জনকে হত্যা করা হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রমাণ করে আরসার কার্যক্রম সক্রিয়।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি বলেছেন, ‘২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে দুবার এসেছি। ওই সময় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুদিন ছিলাম। সেখানে তিনটি বৈঠক করেছিলাম। চিকিৎসার কথা বলে স্থলপথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছিলাম। চিকিৎসা শেষে আবারও মিয়ানমারে ফিরে যাই।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার কার্যক্রম অব্যাহত আছে উল্লেখ করে আতাউল্লাহ বলেন, ‘আরসার কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গারা সমর্থন করেন। তবে আমরা কোনও রক্তপাতের সঙ্গে জড়িত নই। অন্য কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন এসব অপকর্ম করে আরসার ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় আরসা জড়িত নয়। রোহিঙ্গাদের হত্যা করা আমাদের কাজ নয়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় আমাদের লক্ষ্য।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার কার্যক্রমের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু অপরাধী সংগঠন আরসার নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা কোনও অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছি না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এপিবিএনের তিনটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। আমার অবস্থান থেকে ক্যাম্পে আরসার কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে কি নেই, সেটি বলা মুশকিল।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুহিবুল্লাহসহ সাত জনকে হত্যার পর ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতির বিষয়ে মুখ খোলেন রোহিঙ্গারা। এসব হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করলে আরসার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যান। সম্প্রতি আরসার সদস্যরা ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন। তারা ক্যাম্প ১০, ১১, ৭, ৬, ৫, ২, ৪, ২০, ১৭ ও ৯-এ সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখা ক্যাম্পে আরসার শীর্ষ নেতারা অবস্থান করেন। আরসার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং তাদের ফতোয়া দিতে ওলামা কাউন্সিলর ওরফে ওলামাবাড়ি নামে আরও দুটি সংগঠন রয়েছে। তাদের প্রায় ১০০ সদস্য রয়েছেন। আরসার ছয় হাজারের বেশি সদস্য আছেন। তাদের লক্ষ্য ১০-১২ হাজার সদস্য সংগ্রহ করা।

কয়েক মাসে আগে আরসার সদস্য অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আনোয়ার (ছদ্মনাম)। কয়েকদিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। আনোয়ার বলেন, ‘আরসার নেতারা বলেছিলেন রোহিঙ্গাদের স্বার্থে কাজ করছেন। এজন্য আমরা কয়েকজন আরসার দলে যোগ দিয়েছিলাম। দলে যোগ দেওয়ার পর বুঝতে পারি, তাদের লক্ষ্য এবং কাজ ভিন্ন। তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের যোগাযোগ রয়েছে। আরসায় যোগ না দিলে রোহিঙ্গাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ফলে অনেক রোহিঙ্গা ভয়ে তাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য হয়। ক্যাম্পে এখন তাদের কাজ হচ্ছে মাদক, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। জামিনে ‍মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তাদের হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে দিন পার করছি আমি।’

আরসার ভয়ে এক মাস ধরে ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. ইসলাম। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আরসার পাঁচ সদস্যের নাম উল্লেখ ও ২০ অজ্ঞাত সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ইসলাম। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান হয়নি। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে আমার বাড়িতে খোঁজ নিতে যান আরসার সদস্যরা। ফলে ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক, ক্যাম্পে আরসা সক্রিয়; এটাই সত্য। এমনকি ক্যাম্পে বারবার আগুন লাগার পেছনেও আরসার হাত আছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা নেতা ও রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, ‘ক্যাম্পে আরসা আছে। সেটি আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। সম্প্রতি আরসা প্রধানের ভাই এবং ওলামা কাউন্সিলের সদস্য গ্রেফতারের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। সরকারের উচিত, আরসার সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখা। সাত জন হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে গেলেও আবারও ক্যাম্পে ফিরেছে আরসা।’

এর আগে মুহিবুল্লাহ হত্যায় আরসার সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি মুহিবুল্লাহর সঙ্গে ছিলেন। হাবিব উল্লাহ বলেছেন, ‘খুনিদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। সন্ত্রাসীরা আরসার সদস্য।’

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণে আরসা জড়িত রয়েছে। এই প্রথম জাতিসংঘের কোনও প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতি নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আরসার সদস্যদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ ও ভয়ভীতি দেখানোর ব্যাপারে আমি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছি।’

অবশ্য তার এই বক্তব্যের পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

গত ৫ মার্চ মুফতি জাকারিয়াকে (৫৫) গ্রেফতার করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। গ্রেফতার জাকারিয়া আরসার ওলামা কাউন্সিল প্রধান ছিলেন বলে দাবি করেছিল এপিবিএন।

এর আগে ১৬ জানুয়ারি উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠ এলাকা থেকে আরসা প্রধান আতাউল্লাহর ভাই মো. শাহ আলীকে অস্ত্র এবং মাদকসহ গ্রেফতার করেছিল এপিবিএন। শাহ আলী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ান বাজার এলাকার স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছেন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রুহুল আজম বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ান বাজারের জয়নব কলোনির স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে শাহ আলী পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। মুফতি জাকারিয়া ও শাহ আলীকে গ্রেফতারের পর ক্যাম্পে আরসা বাহিনী থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এপিবিএন। কিন্তু এ নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

তবে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পে কে কোন পরিচয়ে অবস্থান করছে, সেটি মূল বিষয় নয়। সব অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। ইতোমধ্য বেশ কিছু অপরাধীকে আমরা ধরতে সক্ষম হয়েছি। আসলে ক্যাম্পে কি ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠন ও আরসা রয়েছে তা জানতে গভীর তদন্তের প্রয়োজন।’

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি জিয়াউল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর অভিযানের মুখে আরসার কিছু সদস্য পালিয়ে গেলেও আবারও ক্যাম্পে ফিরেছে। এরই মধ্যে ক্যাম্পের পরিস্থিতি অশান্ত করতে আগুন লাগিয়ে দিতে একটি বৈঠক করেছিল তারা।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে আরসার উপস্থিতি রয়েছে। সেই সঙ্গে আরসা প্রধানের ভাইয়ের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার ঘটনার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‌‘নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। আরসা বাহিনী পাহাড়ে কিংবা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতে পারে। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য ঘটনা ক্যাম্পে উগ্রপন্থীদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আরসা নিয়ে জাতিসংঘ যদি উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তাহলে তাদের উচিত হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়া। অন্যথায় ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী থাকলে আর্থ-সামাজিক সংকটের সঙ্গে সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে বাধ্য। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে আরসার সমর্থক আছে। ওখান থেকে তারা আর্থিক-সামরিক সাহায্য পেতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে জাতিসংঘের উচিত হবে তা হস্তান্তর করে বাংলাদেশকে সহায়তা করা।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়ন বলেন, ‘ক্যাম্প পরিদর্শনকালে আমরা জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজকে সরাসরি বলেছি, এখানে আরসার অস্তিত্ব নেই। পরে তিনি বলেছেন, আরসার অস্তিত্ব আছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের বলেছে অস্তিত্ব নেই।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা আছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপারেশন্স মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. হায়দার আলী খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেউ কেউ তথাকথিত আরসার সদস্য দাবি করলেও ক্যাম্পে আরসার অস্তিত্ব নেই। আরসা নামে কোনও সংগঠনের কার্যক্রম ক্যাম্পে আছে বলে মনে হয় না। আমরা খোঁজ নিয়েছি, তাদের কোনও অবস্থান পাইনি। মূল কথা হলো কোনও ব্যক্তি দেশে কিংবা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা।’

১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে নজির সৃষ্টি করছেন উল্লেখ করে ডিআইজি হায়দার আলী খান বলেন, ‘একসময় অনেকেই দেশে জঙ্গির অস্তিত্ব থাকার কথা বলেছে, আসলে কি ছিল? ঠিক একইভাবে কিছু অপরাধী আরসার নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুযোগ নিচ্ছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অপরাধী ধরাও পড়েছে। বাকিরাও ধরা পড়বে।’

আরসা প্রধান আতাউল্লাহর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসা ও বৈঠক করা, তার ভাই শাহ আলীর গ্রেফতারের বিষয়ে ডিআইজি হায়দার আলী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কোনও অপরাধীর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই।’