প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির জাতি স্বত্তাকে বাস্তবে রূপায়িত করেছেন। তিনি আমাদের বাঙালিয়ানার নিজস্ব বৈশিষ্ট রূপ, লাল-সবুজের পতাকা প্রতিষ্ঠিত করে সুন্দর একটা দেশে মাতৃভূমিকে উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত বুধবার (১৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় রামু স্টেডিয়ামের বঙ্গবন্ধু উৎসবের ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তৃতা করেন।

প্রধান অতিথি মো. মামুনুর রশিদ বলেন, যারা তারুণ্যদ্বীপ্ত, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে, তারা রামুর এ উৎসবে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন জীবন এবং দর্শন সম্পর্কে জানছে। সাতব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন কেউ না কেউ কথা বলছেন, চেতনার গান হচ্ছে, জাগরণের গান হচ্ছে, কবিতা হচ্ছে, এই উদ্ভাবনী আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ তিতীক্ষার জীবন-আদর্শ আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। এই আয়োজনটা একটা উৎসাহ উদ্বীপনার প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধু উৎসেবর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাইমুম সরওয়ার কমল এমপিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শনকে সাধারণ মানুষের প্রাণ স্পর্শ করবার মতো একটা উদ্ভাবনী আয়োজন করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা বিজয়ের ৫০ বছর ও জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রামুতে বঙ্গবন্ধু উৎসবের ষষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল হক।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা সবসময় জিরো টলারেন্সে কাজ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতিহারে বলা আছে, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে শূণ্য সহিষ্ণুতা নীতি বাস্তাবায়ন করতে হবে। আপনাদের যেকোন কাজে আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন। আমাদের কাছে আসবেন। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত কাজে। সরাসরি যোগাযোগ করবেন। সর্বোচ্চ কম সময়ের মধ্যে আমরা সেবা দেয়ার চেষ্টা করবো।

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ হিসেবে আপনাদের যানমালের নিরপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। সেই কাজটি করে যাচ্ছি আন্তরিক ভাবে নিষ্টার সাথে। আপনার পুলিশ আপনার পাশে সর্বদা। আমরা আছি যেকোন বিপদে আপনাদের পাশে। তিনি বলেন, রামুর বঙ্গবন্ধু উৎসবে শিশু-কিশোর, তরুন-যুবক, বৃদ্ধ, সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এক মহামিলনে উপস্থিত হয়েছেন। প্রাণের এ উৎসব দেখে, আমি সত্যি অভিভূত। ঘটনা বহুল মার্চ মাসে সুন্দর একটি আয়োজনে আপনাদের এই আনন্দের অংশিদার হয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

বঙ্গবন্ধু উৎসবের কো-চেয়ারম্যান তপন মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু উৎসবের ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সুপার ডা. মুমিনুর রহমান। বঙ্গবন্ধু উৎসব মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ, সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিগ্যান চাকমা, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আনোয়ারুল হোসাইন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পারভীন আকতার, কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও স্পেশাল পিপি এড. একরামুল হুদা, ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হুমায়ন কবির হিমু, বাঁচা মিয়া চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুস্তম আলী চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ সভাপতি খালেদ নেওয়াজ আবু, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভূট্টো, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল হক ও বঙ্গবন্ধু উৎসব পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।

রামুতে বঙ্গবন্ধু উৎসবের ষষ্ঠ দিনে রাতের অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, রাজারকুল জ্ঞান-অন্বেষন পাঠাগার, রামু রায়মোহন সংগীতালয়, রামু ইনস্টিটিউট অব মিউজিক। একক সংগীত পরিবেশন করে ইসকান্দর মীর্জা, তালেব মাহমুদ, গোলাম মোস্তফা বাবুল, বিপ্লব ধর ত্রিশুল ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের শিল্পী মেরী।