গত ১৫ মার্চ দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় ও ১৪ মার্চ সিবিএন অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘খুরুশকুলের রাখাইন পাড়ায় ৭ পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার অভিযোগ, মানবেতর দিনযাপন, মামলা করেও নিষ্কৃতি মিলছে না’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদটি আমরা খুরুশকুলের রাখাইন সমাজ পরিচালনা কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা খুরুশকুল রাখাইন সম্প্রদায়ের আপামর জনসাধারণের পক্ষে রাখাইন সমাজ পরিচালনা কমিটি কর্তৃক উক্ত ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া ও কাল্পনিকভাবে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

শুরুতেই পাঠকবৃন্দসহ কক্সবাজারের সকল স্তরের প্রশাসনের জ্ঞাতার্থে সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক জানাচ্ছি যে, বর্ণিত সংবাদে যে ৭ পরিবারকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ আনা হয়েছে তা আদৌ সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই নিজেদের অপকর্মের স্বার্থে নিজেদের ঘরে অবস্থান না করে, নিজেরাই বিভিন্ন অপরিচিত, অচেনা লোক পাঠিয়ে নিজেদের ঘরে ভাংচুর করে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় হয়রানিমূলক বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে খুরুশকুল রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু ভান্তেসহ সম্প্রদায়ের লোকজনদের সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। উক্ত সংবাদে আমাদের অত্র রাখাইন পাড়া সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত ব্যক্তি, ধর্মগুরু, আমাদের অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী সদ্ধম্ম বীর বৌদ্ধবিহারের ভান্তে ‘উ শাসন বংশ মহাথের’কে জড়িয়ে তার আত্মীয়স্বজনদের নাম ব্যবহার করে যে ডাহা মিথ্যা, মানহানিকর কথাবার্তা উল্লেখ করে যে, তা আমাদের গোটা রাখাইন সম্প্রদায়কে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে। প্রকৃতপক্ষে সংবাদে উল্লেখিত আবুরি ও আমারী রাখাইন-দ্বয়ের মধ্যে আমাদের অত্র রাখাইন সমাজ কমিটির লোকজনদের মধ্যে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাখাইন সম্প্রদায়ের সার্বজনীন মালিকানাধীন ০.২০ একর জমি সংক্রান্তে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের মধ্যে আমাদের ধর্মগুরু, ভান্তে উ শাসন বংশ মহাথের এর লেশমাত্র কোন ধরণের সম্পৃক্ততা না থাকলেও তারা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে সম্প্রদায়িক লোকজনদের মধ্যে অহেতুক বিভেদ, বিদ্ধেষ, দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে এহেন অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। উক্ত সংবাদে জায়গা-জমির বিরোধ সংক্রান্তে যে বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতেও প্রকৃত কোন তথ্য উপস্থাপন করা হয় নাই। তাদের মনগড়াভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জায়গার বিরোধটি উপস্থাপন করেছে।

সংবাদে উল্লেখিতমতে ৭ পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে অফিসের কাগজপত্র তছনছ করা, আসবাবপত্র, মূল্যবান জিনিসপত্র, ভেঙ্গে ফেলা, স্কুল কার্যক্রম বন্ধ দেয়া ইত্যাদি বিষয়াবলী সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবাদে উল্লেখিতমতে এরকম কোন ঘটনায় কখনো অত্র এলাকায় ঘটে নাই। যা ইতিপূর্বেও স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন দায়িত্বরত চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক লোকজন একাধিকবার তদন্ত করেছেন এবং এবিষয়ে স্থানীয় তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবসহ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মহোদয় উভয়ে অবগত আছেন। উক্ত সংবাদে মংহ্লাওয়ে এর ছেলে উছাচিং এবং মংবালাইন, চিং থোইন হ্লা এর ছেলে মংক্যহ্লাইন-গণের বিরুদ্ধে স্কুল সংশ্লিষ্ট যে অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। উক্ত স্কুলটি বিগত চার বছর পূর্বে দাতা সংস্থার আর্থিক অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে যায়। যা আড়াল করে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও চাকুরীজীবী ব্যক্তিদের মান সম্মান ক্ষুন্ন করার নিমিত্তে তাদের বিষয়ে এহেন মিথ্যা কথাবার্তা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণিত উছাচিং একজন সরকারি প্রতিষ্ঠান আরআরআরসি অফিসে চাকুরীরত, মংবালাইন একজন ঢাকা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র এবং মংক্যহ্লাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র।

ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যা হচ্ছে- অত্র খুরুশকুল ইউনিয়নের রাখাইন সম্প্রদায়ের পাড়ালিয়া লোকজনদের পুজা-অর্চনা ও সামাজিক কার্যাদি সম্পাদনের কাজে ব্যবহারের নিমিত্তে বিগত ০৯/০৩/১৯৯৮ইং তারিখের ৬৬১নং রেজিঃযুক্ত কবলা দলিল মূলে রাখাইন পাড়া সমাজ কমিটির লোকজনদের নিয়ে গঠিত ‘‘পুরুষ সমিতির পক্ষে সভাপতি-আবুরী রাখাইন এবং মহিলা সমিতির পক্ষে সভাপতি-আমারী রাখাইন-এর নামে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল মৌজার আর.এস ৯২৪নং খতিয়ানের তুলনামূলক বি,এস ৮৬৮নং খতিয়ানের বি,এস ২৬১৮, ২৬১৯ দাগের ০.২০ একর জমি ক্রয় করা হয়। উক্ত জায়গায় রাখাইন পাড়ালিয়া লোকজনদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করাসহ বিগত ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ জাপানী একটি সংস্থার অর্থায়নে রাখাইন শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক অধ্যয়নের জন্য একটি স্কুল পরিচালিত হতো। বিগত চার বছর পূর্বে সংস্থার আর্থিক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে, কিছুদিন যাবত রাখাইন সম্প্রদায়ের নিজেদের অর্থায়নে পরিচালনা করলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাতাল হয়ে পাঠদান কার্যক্রম থেকে বিরত হয়ে পড়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা অন্যত্রে চলে গেলে আপনা-আপনি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বর্ণিত বিরোধীয় জায়গাটি খুরুশকুল রাখাইন পাড়ালিয়া লোকজনদের আর্থিক সহযোগিতায় খরিদ করা হলেও উক্ত আবুরি এবং আমারি’র নামে দলিল লিপি হওয়ায় তারা এককভাবে নিজেদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দাবী করে জমিটি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে নামজারী খতিয়ান সৃজনের মাধ্যমে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালালে এবং সমিতির তহবিল তছরূপ করলে আমাদের আপত্তির প্রেক্ষিতে তাদের নামজারীর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। বর্ণিত বিরোধীয় জমি আবুরী রাখাইন ও আমারী রাখাইন কিংবা অন্যকোন ব্যক্তি বিশেষের অর্থে খরিদা জমি নহে। তা সমাজ কমিটির লোকজনসহ পাড়ালিয়া লোকজনের আর্থিক সহযোগিতায় খরিদ করা হয়। উক্ত বিরোধটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইতিপূর্বে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য, কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে এবং দীর্ঘ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিগত ১৫/১২/২০২১ইং তারিখ খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মহোদয়সহ অন্যান্য শালিসকারকগণ একখানা শালিসী রোয়েদাদ প্রদান করেন। শালিসী সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, বিরোধীয় জমিটি যেহেতু রাখাইন সমাজের সকল লোকজনদের ব্যবহারের ক্রয়কৃত জমি এবং রাখাইন পাড়ার সার্বজনীন মালিকানাধীন সম্পত্তি, সেহেতু পুরুষ ও মহিলা সমিতির পক্ষে বর্ণিত আবুরি এবং আমারির নামে নামজারী খতিয়ান সৃজন করতঃ জমিতে রাখাইন পাড়ার নামে দানপত্র করে দিবেন। যার ফলে রাখাইন পাড়ার সকল লোকজনদের ব্যবহারে যাতে কোন রকম বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

উক্ত আবুরি ও আমারি শালিস বৈঠকের উক্ত সিদ্ধান্ত মানিয়া নিয়া তিনশত টাকা স্ট্যাম্পে প্রস্তুতকৃত শালিসনামায় স্বাক্ষর প্রদান করলেও পরবর্তীতে তা অমান্য করতঃ অদ্যবধি রাখাইন পাড়ার নামে তপশীলোক্ত জমি রেজিষ্ট্রী প্রদান করে নাই। উল্টো তারা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্রে চলে গিয়ে তাদের ঘরে বহিরাগত বিভিন্ন লোকজন পাঠিয়ে ঘরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ভাংচুর করিয়ে এবং তা মোবাইলে ভিডিও, ছবি ধারণ করে আমরা রাখাইন পাড়ার লোকজনদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়াইয়া হয়রানি করছে। সেই সাথে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করছে। তাদের এহেন অপতৎরতার বিষয়ে ইতিপূর্বে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মহোদয়কেও অবগত করা হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে উক্ত আবুরি ও আমারি রাখাইন নিজেদের কুউদ্দেশ্য সাধন করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পত্রিকায় এহেন মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। আমরা উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এহেন মিথ্যা সংবাদ পরিবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট সদয় হস্তক্ষেপ কামনাসহ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

প্রতিবাদকারী
খুরুশকুল রাখাইন পাড়ালিয়া লোকজনদের পক্ষে-

মেসাং, বাসান, হেনমং ও থোইন উখাইন
রাখাইন পাড়া সমাজ কমিটি, খুরুশকুল, সদর, কক্সবাজার।