নিজস্ব প্রতিনিধি, কুতুবদিয়াঃ

কখনো তানভীর আবার কখনো আবদুল্লাহ পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নির্বাচন অফিসে মাস্টার রোলে কাজ করা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জাতীয় পরিচয় পত্র করতে ছবি তোলার সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৩শ থেকে ৫শ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

হাসান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে ফোন করে জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি তোলার জন্য আমাকে অফিসে যেতে বলা হয়। অফিসে গেলে ফাইলে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে ৫শ টাকা দাবী করেন তানভীর নামের ওই ব্যক্তি। এ সময় তানভীর নিজেকে নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী বলে পরিচয় দেন। টাকা দিতে না পারায় আমার ছবি তোলা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও বেশ কজন ভুক্তিভোগী জানান, ২৩০ টাকা সরকারি ফি আদায়ের কথা বলে আবদুল্লাহ নামের ওই অফিস সহকারী ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। চোখের সামনে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৩শ থেকে ৪শ টাকা নিয়ে ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন অজুহাতে অনেকের ফাইল ফেরতে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তানভীরের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার (০১৮*২৬১৮০&*৪) যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে সরেজমিন নির্বাচন অফিসে গেলে তানভীরকে সেখানে কাজ করতে দেখা যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি সাংবাদিকদের একটি কাগজ দেখিয়ে এনআইডি সার্ভার কপির জন্য ২৩০ টাকা সরকারি ফি নেয়া হয়েছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার জামশেদুল ইসলাম সিকদার জানান, সার্ভার কপির জন্য নিদিষ্ট ট্রেজারি নাম্বারে ২৩০ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া বিধান রয়েছে। সরাসরি টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই। তাছাড়া ছবি তোলার জন্য কোন ফি দিতে হয় না। অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ টাকা নিলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের সাপেক্ষে তদন্ত পূর্বক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, তানভীর অথবা আবদুল্লাহ একই ব্যক্তির দুটি নাম। তিনি কুতুবদিয়া নির্বাচন অফিসের মাস্টার রোলের কর্মচারী।