মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড় হতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কে ১৪ টি কার্লভাট রয়েছে। প্রধান সড়কের উন্নয়নের সাথে এসব কার্লভাট গুলোও পূণ:নির্মাণ করা হচ্ছে। কার্লভাট গুলোর উভয় পাশ অধিকাংশ বেদখলে চলে গেছে। ফলে প্রধান সড়কের পানি নিষ্কাশনে সংকট দেখা দেয়। চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাই সিএস মৌজা ম্যাপ মতে প্রতিটি কার্লভাটের উভয় পাশে ১৫০ মিটার অর্থাৎ ৪৯৩ ফুট করে মোট ৯৮৬ ফুট ড্রেন নির্মাণ করার জন্য প্রধান সড়ক উন্নয়নের প্রাক্কলনে প্ল্যান-ডিজাইন করে অর্থ বরাদ্দ রাখা রয়েছে।

১৪ টি কার্লভাটের উভয় পাশে প্রতিটির ৯৮৬ ফুট করে বেদখল হওয়া ড্রেনের জমি উদ্ধার করে ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার পৌরসভার অনুমতি চেয়ে কউক থেকে কক্সবাজার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছিলো। কক্সবাজার পৌরসভা এ বিষয়ে কউক-কে অনুমতি দেয়নি। কক্সবাজার পৌরসভা নিজেরাই এলজিইডি’র প্রকল্পের মাধ্যমে এসব ড্রেন নির্মাণ করবে বলে কউক-কে সম্প্রতি পত্র দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে।

কউক এ কাজের অনুমতি পেলে একদিকে, ড্রেন সংস্কার হতো, অন্যদিকে, বেদখলে থাকা ড্রেনের জমি উদ্ধার হতো। ফলে প্রধান সড়কের জলাবদ্ধতা আর খুব একটা থাকতো না। কক্সবাজার পৌরসভা অনুমতি না দিলে কউক এর করার কিছুই নাই। তাই কক্সবাজার পৌরসভা ড্রেন নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ায় এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়া হবে।

গত ১১ মার্চ কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন “টেকপাড়া সোসাইটি” এর বার্ষিক মেগা মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ এলডিএমসি-পিএসসি (যুগ্মসচিব মর্যাদাসম্পন্ন) এ তথ্য প্রকাশ করেন।

কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ আরো বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা ড্রেন নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ায় এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নির্মাণাধীন প্রধান সড়কের উচ্চতা অনেকাংশে আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভার অভ্যন্তরে আন্তসংযোগ সড়ক ও গলি সমুহের সংযোগস্থল গুলো বেশি উঁচু-নীচু হয়ে গেছে। ফলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রধান সড়কের সাথে আন্তসংযোগ সড়ক ও গলি সমুহের উঁচু-নীচু সংযোগস্থল কউক এর উদ্যোগে স্বাভাবিক করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে খুব শীঘ্রই কক্সবাজার পৌরসভাকে কউক থেকে পত্র দেওয়া হবে। কক্সবাজার পৌরসভা তাদের সড়কে কাজ করার জন্য কউক-কে অনুমতি দিলে প্রধান সড়কের সাথে আন্তসংযোগ সড়ক ও গলি সমুহের উঁচু-নীচু সংযোগস্থল কউক এর উদ্যোগে স্বাভাবিক ও চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে।কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ আরো বলেন, কউক ভবন নির্মাণ কাজের সাশ্রয়কৃত অর্থও ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ বলেন, প্রধান সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার পর কউক কক্সবাজার শহরে আর কোন কাজ করবেনা। তিনি বলেন, বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারেরা যতই শক্তিশালী হউক, সিএস মৌজা ম্যাপ মতে একদিন অবৈধ দখলদারদের অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে।

কক্সবাজার শহরের মধ্যম টেকপাড়ায় সৈয়দ স্যারের নির্মানাধীন বিশাল বাসভবনে দিনব্যাপী চলে কক্সবাজার শহরের পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনে নিরন্তর পথচলা ‘টেকপাড়া সোসাইটি’ এর বার্ষিক এই মেগা মিলনমেলা। সোসাইটির সফল সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যাংকার এম. জাহেদ উল্লাহ জাহেদ’র সভাপতিত্বে ক্রীড়া সম্পাদক ওয়াসিফ কবির এর নান্দনিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মিলনমেলার আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান। সভায় টেকপাড়া সোসাইটি গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনের পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক, উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন- সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিকুজ্জামান আশিক।

হাফেজ নিজাম উদ্দিনের পবিত্র কোরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ছৈয়দ আহমদ, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিদারুল ইসলাম রুবেল, মহেশখালী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, ব্যাংকার খোরশেদ আলম, ব্যাংকার ছানাউল্লাহ, মমতাজুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রাণের উচ্ছাসে, অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় বক্তারা বুনিয়াদি ও ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর টেকপাড়ার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে টেকপাড়া সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রমের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন-একসময় জেলার সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া বুনিয়াদি এলাকা টেকপাড়া আজ অবহেলিত ও বঞ্চিত। বৃহত্তর টেকপাড়ার মেধাবী ও কৃতিসন্তানেরা একসময় শুধু বৃহত্তর টেকপাড়া নয়, পুরো কক্সবাজারকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছে। অথচ সেই বৃহত্তর টেকপাড়া দীর্ঘদিন ধরে চরম নেতৃত্ব সংকটে, জনপ্রতিনিধি শুন্যতায় ভুগছে। বক্তারা বলেন, বিস্ময়কর হলেও সত্য, শহরের পূর্ব পেশকার পাড়া থেকে পূর্ব রুমালিয়ার ছরা পর্যন্ত, প্রধান সড়কের উত্তর পাশে এবং বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। টেকপাড়া সোসাইটি তাদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই শুন্যতা ও সংকট কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। যা টেকপাড়াবাসীকে প্রেরনা ও প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ করেছে। বক্তারা বৃহত্তর টেকপাড়াবাসীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে, টেকপাড়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে ‘টেকপাড়িয়ান’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

বিশাল এ মিলনমেলায় প্রায় অর্ধ সহস্র অতিথিকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করানো হয়। বর্ণাঢ্য, রকমারি ও নান্দনিক সব উপভোগ্য ইভেন্টে পুরো মিলনমেলা বৃহত্তর টেকপাড়াবাসীদের জন্য উৎসবে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ইয়াসমিন আক্তার, পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীম আক্তার সহ কয়েক শত আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।