মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ করে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হলেও সড়কে আগের মতো যানজট থেকেই যাবে। কারণ প্রধান সড়কে ই-বাইক, টমটম, মটর রিকসা, ব্যাটারীচালিত যান সহ অবৈধ যানকে নিয়ন্ত্রণে না আনলে যানজট নিরসন কখনো সম্ভব নয়।

গত শুক্রবার ১১ মার্চ কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন “টেকপাড়া সোসাইটি” এর বার্ষিক মেগা মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ এলডিএমসি-পিএসসি (যুগ্মসচিব মর্যাদাসম্পন্ন) একথা বলেন।

কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ আরো বলেন, কক্সবাজার শহরের পশ্চিমে হলিডে মোড় হতে পূর্বে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়ক উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশের মেয়াদ রয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে চলতি জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে ২ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপে রাখা হয়েছে। তিনি প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছুটা গাফেলতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। কউক এর যথাযথ তদারকির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের গতি কমাতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান সড়কের কাজ শেষ করতে কউক সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ। তিনি বলেন, প্রধান সড়ক উন্নয়নের পর কউক কক্সবাজার শহরে আর কোন কাজ করবেনা।

কক্সবাজার শহরের মধ্যম টেকপাড়ায় সৈয়দ স্যারের নির্মানাধীন বিশাল বাসভবনে দিনব্যাপী চলে কক্সবাজারের শহরের পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনে নিরন্তর পথচলা ‘টেকপাড়া সোসাইটি’ এর বার্ষিক এই মেগা মিলনমেলা। সোসাইটির সফল সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যাংকার এম. জাহেদ উল্লাহ জাহেদ এর সভাপতিত্বে ক্রীড়া সম্পাদক ওয়াসিফ কবির এর নান্দনিক সঞ্চালনায় রাত ৮ টার দিকে শুরু হয় মিলনমেলার আলোচনা সভা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান। সভায় টেকপাড়া সোসাইটি গঠন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনের পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক, উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিকুজ্জামান আশিক।

হাফেজ নিজাম উদ্দিনের পবিত্র কোরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ছৈয়দ আহমদ, কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়াড়ডের কাউন্সিলর দিদারুল ইসলাম রুবেল, মহেশখালী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যাংকার খোরশেদ আলম, বিশিষ্ট ব্যাংকার ছানাউল্লাহ, টেকপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রাণের উচ্ছাসে, অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় বক্তারা বুনিয়াদি ও ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর টেকপাড়ার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে টেকপাড়া সোসাইটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন-একসময় জেলার সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া বুনিয়াদি এলাকা টেকপাড়া আজ অবহেলিত ও বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে চরম নেতৃত্ব সংকটে, জনপ্রতিনিধি শুন্যতায় ভুগছে বৃহত্তর টেকপাড়া এলাকা। বক্তারা বলেন, বিস্ময়কর হলেও সত্য, শহরের পূর্ব পেশকার পাড়া থেকে পূর্ব রুমালিয়ার ছরা পর্যন্ত, প্রধান সড়কের উত্তর পাশে এবং বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে কোন জনপ্রতিনিধি নেই। টেকপাড়া সোসাইটি তাদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই শুন্যতা ও সংকট কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। যা টেকপাড়াবাসীকে প্রেরনা ও প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ করেছে। বক্তারা বৃহত্তর টেকপাড়াবাসীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে, টেকপাড়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।সভায় সমৃদ্ধ, নিরাপদ, আদর্শ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বৃহত্তর টেকপাড়া গড়ে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ এম. জাহেদ উল্লাহ জাহেদ তাঁর বক্তৃতায় ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া টেকপাড়া সোসাইটি-কে এলাকাবাসী, প্রবাসী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সহ সকলে বিভিন্নভাবে সহায়তা করায়, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং টেকপাড়া সোসাইটিকে একটি মডেল সংগঠন হিসাবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে আরো সহযোগিতা কামনা করেন।

সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিকুজ্জামান আশিক সোসাইটির ২০২২-২৩ সালের কর্ম পরিকল্পনা মিলনমেলার সমাবেশে তুলে ধরেন। কর্ম পরিকল্পনার মধ্যে পূর্বের মত সামাজিক, মানবিক, সৃজনশীল ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়াও নতুন কমিটি গঠন, সোসাইটি মেমোরেন্ডাম তৈরি সহ আরো বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া সোসাইটির সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দকে তিনি স্মরণ করেন শ্রদ্ধাভরে। মিলনমেলায় প্রায় অর্ধ সহস্র মানুষকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করানো হয়।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ইয়াসমিন আক্তার, কক্সবাজার পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীম আক্তার, কক্সবাজার জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী মোঃ আমান উল্লাহ ও বখতিয়ার হোসেন, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ম্যানেজার মাসুদুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যাংকার রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, এড. আবু কাইয়ুম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী এহসানুল হক রিয়াজু ও হাবিব উল্লাহ, সাহেদুজ্জামান শাহিন, গিয়াস উদ্দিন, মুফিজুর রহমান কোং, আবু মোহাম্মদ কাওসার, আবুল হাসান ছোট মিয়া, আরিফুর রহমান, ছৈয়দ আহমেদ উজ্জ্বল, আবদুল হামিদ, এড. আবু মোঃ সায়েম, মাসুদুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মনজুরুল হাসান, মোঃ রফিক উদ্দিন, ব্যাংকার ইমতিয়াজ মনজুর মিসু, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, ব্যাংকার জসিম উদ্দিন সাঈদ, হেলাল উদ্দিন, শাহেদুজ্জামান সাহেদ, এনামুল হক এনাম, ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, এড. জোবাইর, আবুল কালাম সহ কয়েক শত আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।