জালাল আহমদ,ঢা.বি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম ছাত্র ও সাবেক অর্থ সচিব মোঃ মতিউল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর আমার উপর আস্থা রেখে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করতে আমাকে অর্থ সচিব করেছিলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার কারণে তিনি আমাকে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।ষাটের দশকে পাকিস্তান আমলে আমি শিক্ষা সচিব ছিলাম। তখন পূর্ব পাকিস্তানে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আমি আমার জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পেরেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্ব এবং অহংকারের জায়গা।

আজ ১২ মার্চ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন” এর উদ্যোগে শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শুধু মাত্র টাকা পাচার হচ্ছে তা নয়। বাংলাদেশ থেকে মেধাও বিদেশে পাচার হচ্ছে। আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করতে যায়।তারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা জন্য গিয়ে আর দেশে ফেরত আসে না। বিদেশে স্থায়ী হচ্ছে তারা ।তাই এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের কে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি স্বৈরাচার এরশাদের আমলে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ছিলাম তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন হতো। ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি এবং নাট্য চর্চা করতেন। এসব কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের মেধা চর্চা করার
সুযোগ পেতেন। তাদের নেতৃত্ব বিকশিত হতো।
দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন হওয়া দরকার।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদ বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিশ্চিত আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা কাজ করে যাব।
আমাদের সময়ের তুলনায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২-৩ গুণ বেড়েছে।কিন্তু লাইব্রেরীর সংখ্যা বাড়ে নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অবস্থা খুবই নাজুক ‌। আমরা প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকি। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বৃদ্ধি করতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করব।

সাবেক ছাত্রনেতা সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ( প্রশাসন) প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ সামাদ , উপ উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর এ .এস. এম . মাকসুদ কামাল, বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব রঞ্জন কর্মকার ,শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফুল হক মুকুল প্রমুখ।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এবং অফলাইনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।