কনক বড়ুয়া, বান্দরবান থেকে ফিরে…

 

সাঙ্গু নদী। সাঙ্গু নদী শঙ্খ নদী নামেও পরিচিত। এটি বান্দরবান জেলার মদক এলাকার পাহাড়ে জন্ম বলে বিভিন্ন ইতিহাসে দেখা যায়। কর্ণফুলীর পর এটি চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১১৯ মিটার। সাঙ্গু নদী নানা ধরনের পাথর দিয়ে পূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সব নদী থেকে নাকি সাঙ্গু নদী সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারন অন্যসব নদী পলি মাটি বয়ে আনে।

পর্যটকদের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ফুটের বেশি ওপরের এ নদী নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার। আবার প্রতিবছর অনেক পর্যটক এই নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ভিড় জমায়।

বান্দরবান যে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর একটি জেলা তাতে কোন সন্দেহ নেই। সবুজে ঘেরা পাহাড় রানী এই বান্দরবানকে আরো সৌন্দর্য্য করে তুলেছে এই সাঙ্গু নদী।

এই নদীর উৎপত্তি ও শেষ বাংলাদেশেই হয়েছে, যার দু’পাশে দাড়িয়ে আছে সুউচ্চ সবুজ পাহাড় ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। এটি পূর্বদিক দিয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম জেলার পশ্চিম দিক দিয়ে বের হয়েছে এবং শেষে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। পাহাড়গুলো পাথরের। দু’পাশের সাড়ি সাড়ি পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী বান্দরবানের রূপে অন্য একটি মাত্রা যোগ করেছে।

তবে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর দু’কূলে প্রচুর পরিমানে পলিমাটি পড়ে। এ নদীতে একসময় ৩৯ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন অধিকাংশ মাছই বিলুপ্তির পথে।

নদীটির ইতিহাস পড়তে গিয়ে দেখা যায়, নদীটির নামকরণ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য কোথাও পাওয়া যায় নি। তবে ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ আমলে বাঙালি আমলারা গেজেটিয়ার করার সময় এটিকে ‘শঙ্খ নদী’ হিসেবে নথিভূক্ত করেন। তবে মারমা আদিবাসীরা তাদের ভাষায় শঙ্খ নদীটিকে ‘রিগ্রাই খিয়াং’ অর্থাৎ ‘স্বচ্ছ নদী’ নামে ডেকে আসছেন। নদীটি পার্বত্য চট্রগ্রামে উত্তরদিকে বৃত্তাকারে বান্দরবান পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে।

জানা যায়, সাঙ্গু,নদী শুকনো মৌসুমে শান্ত থাকলেও বর্ষাকালে এটি ভয়ানক রূপ ধারণ করে। নদী দিয়ে যেতে যেতে দেখা মিলে নদীর গতি ধারা ধরে রাখতে একে সমৃদ্ধ করেছে ছোট-বড় অন্তত দু’শ ঝিরি বা ঝর্ণা।

আবার যেতে যেতে দেখা যায় আদীবাসী পল্লী নামক একটি মার্মাদের পাড়া। ওখানে তাদের জীবন–জীবিকার সাথে সাঙ্গু নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার সাঙ্গু নদীতে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট নৌকা হচ্ছে তাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।

বান্দরবানকে পাহাড়ের রানী বলা হলেও সাঙ্গু নদীর অপরুপ সৌন্দর্য্য বান্দরবানকে আরো স্মৃতিময় সৌন্দর্য্য করে রাখবে।