হ্যাপী করিম, মহেশখালী:
বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা গেলে এসব দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করে জনগণের জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস আজ। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহড়া, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় উপজেলা চত্বরে মহড়া এবং সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র‌্যালি বের করা হয়। এরপর ১১টায় সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহেশখালি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)মো:সাইফুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেস্নের সহকারী পরিচালক পোলক সরকার, সিসিবিভিও এর প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী ও জুনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী’সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, সিসমিক জোনে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বাংলাদেশ অবস্থিত। এক সময়- ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসে অনেক প্রাণহানি ঘটত। সত্তরের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ লোক মারা যায়। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আসে দুর্যোগ পূর্ববর্তী আপডেট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো আগাম তথ্য পাওয়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতিও অনেক কম হচ্ছে। ফলে স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

দুর্যোগ মোকাবেলায় ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের গুরুত্ব উল্লেখ্য বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে রোল মডেল। আর এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহনীয় হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেন। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সব দুর্যোগে সহনীয় রাষ্ট্র হয়ে যাবে। এছাড়াও দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কোড অনুযায়ী সাড়ে ৭ রিখটার স্কেল স্ট্যান্ডার্ড ধরে এখনকার ভবনগুলো করতে হবে। স্থাপনাগুলো ভূমিকম্প সহনশীল কি না যাচাই-বাছাই করে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতেও যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা ও এর ঝুঁকি কমাতে আমরা সক্ষম হব।’

দিবসটির গুরুত্ব উল্লেখ্য পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেস্নের কর্মকর্তা পোলক সরকার বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, খরা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের জনজীবনে নিত্যদিনের ঘটনা। তাই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের সংবিধানে রয়েছে- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার কাজ করছেন।